মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন
আবুল হাসনাত মিনহাজ: চট্টগ্রামে বৃষ্টিতে ভিজে ৯ দফা দাবিতে গণমিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (২ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে আন্দরকিল্লা জামে মসজিদের সামনে এ কর্মসূচিতে অংশ নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা।
নামাজ শেষ হওয়ার পর মসজিদ থেকেই স্লোগান দিতে দিতে সড়কে নেমে আসেন তারা।মিছিল নিয়ে আন্দরকিল্লা-লালদিঘী-কোতোয়ালি মোড় হয়ে নিউমার্কেট মোড়ে গিয়ে ২০ মিনিট মত অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারীরা যখন নিউমার্কেট মোড়ে অবস্থান নেন, তখন বৃষ্টি হচ্ছিল। ওই সময় অনেকে ছাতা নিয়ে, কেউ আবার বৃষ্টিতে ভিজে স্লোগান দিচ্ছেন। নিউমার্কেট হয়ে টাইগারপাস মোড়ে যায়,সেখানে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। সড়কে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেওয়ায় বিঘ্ন হয় যান চলাচল। পরে টাইগারপাস সড়ক হয়ে নগরীর বিভিন্ন জায়গায় প্রদক্ষিণ হয়ে বদ্দারহাট এসে সমাপ্ত করে মিছিলটি। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে গণমিছিলে সামিল হতে দেখা গেছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। সবার মুখে একই স্লোগান।
গত বৃহস্পতিবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রামের সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘গণহত্যা ও গণগ্রেপ্তার, শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সারাদেশে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে দোয়া-কবর জিয়ারত, মন্দির, গির্জাসহ সব প্রার্থনালয়ে প্রার্থনার আয়োজন ও জুমার নামাজ শেষে ছাত্র জনতার গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, আইনজীবী, ডাক্তার, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, আলেম-ওলামা, শ্রমিক, অভিভাবকসহ চট্টগ্রামের সর্বস্তরের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে, শুক্রবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘প্রার্থনা ও ছাত্র জনতার গণমিছিল’ কর্মসূচিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সফল করে তুলুন।’
সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অভি চৌধুরী বলেন, ”গণহত্যা, গণগ্রেপ্তার ও শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আজকের কর্মসূচি।এ কর্মসূচির কাছে বৃষ্টি কিছুই না। ছাত্র-জনতার ৯ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে ছাত্ররা রাজপথ ছেড়ে যাবে না।ছাত্র-সমাজ রাজপথে আছে, রাজপথে থাকবে। আমাদের ভাইদের রক্তের প্রতিটি কণার দাম রাজপথ থেকে নেবো।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী শারমিন বলেন, ”এই আন্দোলন শুধু ছাত্র-ছাত্রীই নয়, আমাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষও অংশ নিয়েছেন। কয়েক হাজার মানুষ বৃষ্টিতে ভিজে বিচারের দাবি জানাচ্ছেন।আমাদের অনেক ভাইকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। খুনিদের বিচার চাই। এ গণমিছিল থেকে আমরা দাবি জানাচ্ছি, যাদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।”
তৌহিদ নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ”সরকার আমাদের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। রাতে বাসায় বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ছাত্র থাকলে গ্রেপ্তার করছে। কিন্তু তারা বলেছিল কোনো প্রকার হয়রানি করবে না। এইচএসসি পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের পর্যন্ত গ্রেপ্তার করে হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার আসামি করা হচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
এদিকে কোটা সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলনের সমন্বয়করা আগে থেকেই ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্দরকিল্লা মসজিদ থেকে কর্মসূচি পালন করার।এ কর্মসূচিতে সতর্ক অবস্থানে ছিলো পুলিশ। জুমার আগে থেকে মসজিদের আশেপাশে অবস্থান নেয় বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের সেখানে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
নগর পুলিশের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ”পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।কোনো ধরনের নাশকতা যাতে না হয় সেজন্য তারা সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। ঘটনাস্থলে দুই শতাধিক পুলিশ সদস্য রয়েছে।শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসূচি পালন করছেন।”